চীন থেকে যন্ত্রপাতি কিনবে অলিম্পিক

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পর্ষদ চীনের কাছ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর মধ্যে দুটি কার্টন উৎপাদন ও একটি ডিম ধোয়া ও ভাঙার যন্ত্রপাতি রয়েছে। কোম্পানিটির নারায়ণগঞ্জের কারখানায় এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। গতকাল অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পর্ষদ সভা শেষে এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি মূল্যসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তথ্যানুসারে, চীনের কানঝো রূপালী ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে দুটি কার্টন উৎপাদন যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ব্যয় হবে ৫ লাখ ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ৬ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দুটি যন্ত্রের বছরে মোট ৩১ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার পিস কার্টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের টেক ইয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের কাছ থেকে একটি ডিম ধোয়া ও ভাঙার যন্ত্র আমদানিতে ব্যয় হবে ৪৬ হাজার ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার ২০০ টাকা। যন্ত্রটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ কোটি ৫২ লাখ পিস।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৯৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৮২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৩৪ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ১৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৩৫ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস হয়েছে ৯ টাকা ১৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৭৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ২৯ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ১২ পয়সায়।

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর)।

১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬। এর ৩৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৯৬, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৩০ দশমিক ২৬ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও